বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে ‘দেশের বর্তমান সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যত করণীয়’ বিষয়ে ব্যবসায়ী সম্মেলনে এ দাবি ওঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসি) এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেন, আমি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই আমলেই এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলাম। কাউকে বলিনি অমুক বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত করে। সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। খাতভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করাই সংগঠনের কাজ। এখানে কে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত করে তা দেখার প্রয়োজন নেই। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেন ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেজন্য আজকের সভা।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের একত্র হয়ে থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভেদ থাকা যাবে না। এফবিসিসিআই রিফর্ম করা দরকার। এটিকে সবাই মিলে ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে তৈরি করতে হবে।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম হায়দার বলেন, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এগুলো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে না। নমিনেটেড প্রথা বাদ দিতে হবে। নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। এফবিসিসিআইর প্রতি অনাস্থা জানাই। লুটেরাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি রাজনীতি ছাড়া হয় না। এটা সত্যি। চলুন সবাই মিলে একত্রিত হয়ে চোরদের বাদ দেই সে যে দলেরই হোক। দিনের ভোট যেন রাতে না হয়।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, আমরা বিদেশে যে দেশগুলোতে রফতানি করি সেসব দেশ আতঙ্কিত। দুইবার কারফিউ হয়েছে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে তাই তারা আতঙ্কিত। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমাদের নির্বাচন কবে? আমি বলেছি তোমরা তোমাদের পণ্য ঠিকভাবে পাবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তোমাদের পণ্য সঠিকভাবে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবে। ব্যবসায়ী নেতাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বার্তা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তার (ড. ইউনূস) সঙ্গে দেখা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে একটি ম্যাসেজ দেয়া দরকার যে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক আছে, বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো আছে, রফতানিতে কোনো অসুবিধা হবে না। আইন শৃঙ্খলা রিস্টোর করা দরকার। আপনারা জরুরি ভিত্তিতে উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। যেসব চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন আছে আমরা বসে সেগুলোর সমস্যার সমাধান করব।
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, তালি আর তেল মারাটা কমাতে হবে। সত্যিকারের প্রতিনিধি হলে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে হবে। ট্যাক্স বেশি নিতে পারলে ইনটেনসিভ দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। তাদের বেতন বাড়ানো হোক। ইনটেনসিভ কেন দেবে। এটা নিয়ে দরকার হলে হাইকোর্টে যাব।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জিবি মেম্বারদের এক সদস্য নাম গোপন রেখে বলেন - সারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পার্লামেন্ট এফবিসিসিআই. ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর এই এফবিসিসিআই স্বাধীনতার পর থেকেই এই এফবিসিসিআই সব সময় সরকারের সাথে এফবিসিসিআই এর প্লাটফর্ম থেকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করে আসে এখানে কোন দল বা মতের প্রাধান্য ছিলনা । আমাদের সবার পরিচয় আমরা ব্যবসায়ী সমাজ এক এবং ঐক্যবদ্ধ . সমস্ত ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা ব্যবসা করার জন্য সুন্দরপরিবেশ বিরাজমান থাকুক .অতীতে ও আমরা দেখেছি সমস্ত দল এবং মতের লোকের এক অপূর্ব মিলন মেলা যেখানে বৈষম্যের কোন স্থান নেই বিগত দিনের চিত্র দেখলে আমরা দেখতে পাই ব্যবসায়ীদের শীর্ষ কোন সম্মেলন হলে বিগত দিনের সকল সভাপতি গন একই ছাতার নিচে হাতে হাত রেখে ব্যবসায়িক সম্মেলনে উপস্থিত হতো. এই এক অপূর্ব দৃশ্য যা আমরা উপভোগ করতাম আমাদের সমস্ত ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা যে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা .দল মত সবার উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা. ব্যবসায়ীদের সবার প্রত্যাশা এক এবং অভিন্ন কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো যে শেখ ফাহিম সভাপতি দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে এই এফবিসিসিআই ব্যবসায়ীদের জন্য এক অন্ধকার যুগের সৃষ্টি করে যেখানে কোন ব্যবসায়ীদের মতামতের কোন মূল্য ছিল না সাধারণ সদস্যদেরকে এই এফবিসিসিআই নিষেধাজ্ঞা জারি করে যা অত্যন্ত লজ্জাকর এবং নিকৃষ্ট ছিল. কোন পরিচালক এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হতো যেগুলা কোন ব্যবসায়িক সমাজ জীবনে চিন্তা ও করতে পারে না .এই এফবিসিসিআই কে শেখ ফজলে ফাহিম তার ব্যক্তিগত বলয় গড়ে তুলে এবং নিজস্ব সচিবালয়ের মত ব্যবহার করতে থাকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের মতের কোন স্থান ছিল না. এই এফবিসিসিআই ব্যবসায়ীদের ভয়ের জায়গা হিসেবে তৈরি করে শেখ ফাহিম এই এফবিসিসিআই এর অফিসকে যুবলীগের কার্যালয়ের মত ব্যবহার করতে থাকলো. কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিদেশ যাওয়ার নাম করে সাধারণ জিবি মেম্বার এর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। যাহা এফবিসিসিআই ইতিহাসে কখনো ছিল না .আর এই এফবিসিসিআই শেখ ফজলে ফাহিমের সাথে জোট বদ্ধ হয়ে এই অপকর্মগুলোকে সম্পাদন করার মূল নায়ক যারা ছিল তাদের মধ্যে ছিলেন মুনতাকিম আশরাফ, মীর নিজাম, সুবীর চন্দ্র দাস, রাজেশ গংরা. দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কোন সাধারণ সদস্য এফবিসিসিআইয়ে প্রবেশ করতে পারে নাই ।তাই তাদের কোন সমস্যা সমাধানের কথা বলতে পারে নাই যা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট. কেউ যদি কোন প্রতিবাদ করতে যেত তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হতো, এফবিসিসিআই উন্নয়নের করার কথা বলে কোন প্রকার বিল ভাউচার ছাড়া কোটি কোটি টাকার অপচয়ের নগ্ন খেলাই মেতে উঠে তারা । শেখ ফজলে ফাহিম এই অন্যায় জোর জুলুম এর সাথী ছিল সুভীর চন্দ্র দাস, মুনতাকিম আশরাফ, মীর নিজাম, রাজেস গংরা । শেষ কর্ম দিবসে দ্বায়িত্বের শেষ সময়ে এফবিসিসিআই এর ১৫ কোটি টাকার ফান্ড বোর্ডের কোন প্রকার অনুমোদন না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ৫ কোটি, পুলিশ কল্যাণ তহবিলে ৫ কোটি এবং বাকী ৫ কোটি টাকা সেনাবাহিনীর ওয়েলফেয়ার এ দিয়ে দেয়। এফবিসিসিআই ফান্ড শুন্য করে চলে যায় । এই জাতীয় বিরল ঘটনা এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে ঘটে নাই। তার সময় কাল শেষ হওয়ার পরও পরবর্তী সভাপতি গনের সময় ও তার কিছু মনোনিত লোক দিয়ে যুবলীগ বাহিনী দিয়ে কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে যাচ্ছে । তার নিযুক্ত কিছু লোকজন দিয়ে বিভিন্ন জায়গাতে বসিয়ে নিয়ন্ত্র করার অবচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। প্রতিবাদ করলে পরিকল্পিত ভাবে জীবন নাশের হুমকির সম্মূখীন হতে হয়।এই কমকান্ডের মাষ্টার মাইন্ড (১) শেখ ফজলে ফাহিম (২) সুবীর চন্দ্র দাস (৩) মুনতাকিম আশরাফ (৪) মীর নিজাম (৫) রাজেশ গং এদেরকে সারাজীবনের জন্য এফবিসিসিআই থেকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করতে চায় ব্যবসায়ীরা ।
আমরা প্রত্যাশা করি সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের এই নগ্ন থাবা কে আর মেনে নেবে না আসুন আমরা সবাই এগিয়ে আসি সুস্থ ব্যবসায়িক মন মানসিকতার লোক একতাবদ্ধ হয়ে তাদের এই নগ্নতার হাত থেকে এফবিসিসিআইকে রক্ষা করি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট কে সাথে নিয়ে আমরা কিভাবে এই এফবিসিসিআইকে ব্যবসায়ীদের আস্থার জায়গা সৃষ্টি করতে পারি সেই ব্যাপারে সবাইকে কাজ করতে হবে. আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে এই সিন্ডিকেডের বিরুদ্ধে, অপকর্মের বিরুদ্ধে . আসুন সবাই মিলে বৈষম্যহীন দল মতের উর্ধে উঠে এই এফবিসিসিআইকে গড়ে তুলি নতুন রূপে নতুন সাজে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সবুর খান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দীন, এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আফজাল হোসেন, আব্দুল হাসান, আবদুল ওয়াহেদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, এফবিসিসিআইর সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান প্রমুখ। সভায় দেশের সব খাতের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যবসায়ী এবং আঞ্চলিক চেম্বারগুলোর ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।