ভোট পারফেক্ট করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ : প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছে না। কোনো অভদ্র আচরণ হচ্ছে না।
‘নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে ১১টি সংগঠন।
আজ রোববার দুপুরে সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন পদপ্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানসহ তার দলের একাধিক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তাদের ভ্যারিফায়েড এক্স (X) অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এটা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয় বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী, আত্মমর্যাদাশীল ও অর্থনীতির অবদানকারী নারীর শ্রম, মর্যাদা ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে উক্ত মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে আমরা মনে করি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য কিংবা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল আজ পর্যন্ত জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। উপরন্তু, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী উক্ত ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত ‘হ্যাকিং’ দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত নারী শ্রমিক এবং সর্বস্তরের কর্মজীবী নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নারীরা সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নারীর এই ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী ভূমিকা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য প্রদান সংবিধান স্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থী।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নারীর সংগ্রামী ভূমিকার মধ্য দিয়েই দেশে নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক কাঠামোয় পুনর্গঠিত হবে। কোনো অপশক্তিই নারীর এই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না।
আমরা আরও মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।সংগঠনের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ জানানো হয়।
১. অবিলম্বে উক্ত অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
৩. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে।
৪. নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে উক্ত বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লাভলী ইয়াসমীন,
নাজমা বেগম,শবনম হাফিজ, রেহেনা বেগম, আখি বেগম,সেলি বেগম, রুনা আক্তার, বেবী বেগম, সাইকা আক্তার, বদরুল আলম,আবুল হোসাইন, ফয়েজ হোসেন, সোহেল রানা,তমিজ খান,আতিয়ার রহমান,দুলাল মিয়া,সুলতান আহমেদ, খাদিজা বেগম, রাবেয়া আক্তার।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছে না। কোনো অভদ্র আচরণ হচ্ছে না।
বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর আজিমপুরের এক তরুণী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া, গোপনে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ইতোমধ্যে কিছু ছবি প্রকাশের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর আজ সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালসহ আশেপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা৷ এতে পুরো এলাকাজুড়ে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। সচেতন যাত্রীরাও এ রাস্তাটি এড়িয়ে চলছেন।