📍 নড়াইল সদর | ২১ এপ্রিল ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ সকালেই আমি আমার DSLR ক্যামেরায় তোলা একটি আগাছা সদৃশ। সাধারণত জমির কোণে বা পথের ধারে বেড়ে ওঠা এই গাছটিকে আমরা ‘আগাছা’ ভেবে উপড়ে ফেলি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এই ‘সাধারণ’ গাছটির রয়েছে অসাধারণ সব ভেষজ গুণ!
🌿 গাছটির পরিচয়:
এটির বৈজ্ঞানিক নাম Physalis angulata, স্থানীয়ভাবে অনেক জায়গায় একে ডাকা হয় ঢেঁড়সা, হাঙ্গর ফল, পেটুল ফল, লাটিম ফল অথবা ট্যাংরা ফল নামে।
গাছটি দেখতে ছোট, ফলগুলি কাগজের খোলার মধ্যে বন্দি থাকে – অনেকটা ছোট্ট লণ্ঠনের মতো। ফলে বাইরে থেকে ঠিক ঠাহর করা যায় না, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বাস্থ্য সুরক্ষার গোপন রহস্য।
🩺 ঔষধি গুণাবলি ও ব্যবহার:
গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, এই গাছটির বিভিন্ন অংশে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং এমনকি ক্যান্সার বিরোধী উপাদান।
⚕️ ব্যবহারসমূহ:
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: পাতার ক্বাথ রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথায়: পাতার রস কফ ও গলার সমস্যা উপশমে কার্যকর।
বাত ও জয়েন্ট পেইনে: গরম করে লাগালে ব্যথা উপশম হয়।
লিভার ও কিডনি পরিষ্কারে: দেহ থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
🧉 আয়ুর্বেদিক রেসিপি:
✅ ঢেঁড়সা পাতার ক্বাথ:
১০-১২টি পাতা পানিতে সিদ্ধ করে দিনে ১ কাপ পান করলে উপকার মেলে।
✅ ব্যথানাশক পেস্ট:
পাতা থেঁতো করে সামান্য হলুদের সাথে গরম করে আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে।
⚠️ সতর্কতা:
এই গাছের কিছু অংশে আলক্যালয়েড জাতীয় যৌগ থাকে, যা অতিরিক্ত বা কাঁচা খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে স্থানীয় কোনো আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।