মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টের চতুর্থ দিনে নিজেদের চতুর্থ ইনিংসে ৩১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়লেও সালমান–রিজওয়ানের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে জয়ের পথেই এগোচ্ছিল পাকিস্তান। দুজনকেই বেশ সাবলীল দেখাচ্ছিল। রিজওয়ানকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন কামিন্স।
কামিন্সের করা শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন রিজওয়ান। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ানদের আবেদনে ফিল্ড আম্পায়ার প্রথম দফায় আউট দেননি। ব্যাট বা গ্লাভসে লাগেনি বলে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল রিজওয়ানকেও। তবে অস্ট্রেলিয়া রিভিউ নিলে থার্ড আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ আউটের সিদ্ধান্ত দেন।
রিভিউতে দেখা যায়, বল রিজওয়ানের রিস্ট ব্যান্ডের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্নিকোতে স্পাইক ধরা পড়ে। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট দেখা গেছে পাকিস্তানি উইকেটকিপার–ব্যাটারকে। আউট হওয়ার পরও ক্রিজে বেশকিছু সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন রিজওয়ান।
আউটের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রিজওয়ান।
ম্যাচ শেষে রিজওয়ানের বিতর্কিত আউট নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন পাকিস্তানের টিম ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাফিজ। আম্পায়ারিং এবং ডিআরএস প্রযুক্তির দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি।
হাফিজ বলেন 'আমাদের নিজেদের অনেক খামতি ছিল আমি মানছি। কিন্তু এটাও সত্যি যে অনেক সময় আম্পায়ারিং আর আধুনিক প্রযুক্তির ভুলের কারণে অনেক জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে আজকাল। আমি মনে করি এগুলো এবার গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।'
পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, এই বিষয়গুলো ক্রিকেটের মারাত্মক ক্ষতি করছে। হাফিজ বলেন, 'আমরা ক্রিকেট খেলি মন থেকে। হারি কি জিতি, যাই হোক, আমরা সবকিছু মাথা পেতে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝেমাঝে আমার মনে হয় যে আমরা বিপক্ষ দলের থেকে আধুনিক প্রযুক্তির বিরুদ্ধেই বেশি লড়ছি। অনেক সময় টেকনোলজি এমন অনেক কিছু আনে যেগুলো আমাদের মাথার ওপর দিয়ে যায়। বল যদি স্টাম্পে লাগে সেটা আউট হয়। এর জন্য আম্পায়ার্স কলের কি দরকার আলাদা করে? আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রিকেটের মারাত্মক ক্ষতি করছে।'
এফআই