• 09 Feb, 2026

ধোঁয়ার আড়ালে ধ্বংস: তরুণদের নিশানা বানাচ্ছে তামাক কোম্পানি

ধোঁয়ার আড়ালে ধ্বংস: তরুণদের নিশানা বানাচ্ছে তামাক কোম্পানি

আজ ৩১ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৫। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে—“তামাক কোম্পানির কৌশল উন্মোচন করুন, তরুণদের রক্ষা করুন”। এই দিনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে তামাকের ভয়াবহ ছায়া থেকে রক্ষা করার জন্য কার্যকর নীতি ও সামাজিক উদ্যোগ।

বাংলাদেশে তামাকের ভয়াবহতা কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) অনুযায়ী, প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রাণ হারায় প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। বিশ্বব্যাপী যেখানে তামাক ব্যবহারের হার ধীরে ধীরে কমছে, সেখানে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে টার্গেট করে তামাক কোম্পানিগুলো ব্যবহার করছে ভয়ংকর কৌশল।

সিগারেটের আকর্ষণীয় প্যাকেজিং, ফ্লেভারযুক্ত ই-সিগারেট, ওয়েব সিরিজ বা সিনেমায় ধূমপানের রোমান্টিসাইজেশন—এসবই তরুণদের দিকে পণ্য ধাবিত করার অংশ। একক সিগারেট বিক্রি, অনলাইনে সহজলভ্যতা, প্রো-মোশনাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে বিভ্রান্তিকর ইতিবাচক ভাবমূর্তি। এদিকে, CSR (Corporate Social Responsibility) কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়মুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অপচেষ্টা করছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৯% তামাকজাত পণ্যে আসক্ত। এটি কেবল উদ্বেগজনক নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ সংকেতও বটে। অথচ বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে বিদ্যমান আইন থাকলেও তার প্রয়োগ যথেষ্ট দুর্বল। যেমন—ধূমপান নিষিদ্ধ এলাকায় নিয়মিতই নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বিক্রয় বন্ধ হয়নি, এবং অনলাইনেও চলছে অবাধ প্রচার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল আইন দিয়ে এই সংকট ঠেকানো সম্ভব নয়। দরকার—
সচেতন নাগরিক সমাজ
✅ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাকবিরোধী কার্যক্রম
✅ তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ
✅ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সম্পৃক্ততা
✅ মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসচেতনতা প্রচার
✅ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তামাক নয়, তরুণদের পাশে থাকাই হোক আগামী দিনের প্রেরণা।