মাত্র ২৫ বছর বয়সে সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে প্রবাসে পাড়ি জমান নড়াইল সদরের শিংগা গ্রামের যুবক শামছুর রহমান। ১২ বছর ওমান থাকার পরে ফের পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সর্বশেষ কাজ করতেন ইয়েমেন সীমান্তের হাইল শহরে। সেখানে আল-আরাবিয়ান কোম্পানীতে কাজ করতেন। রবিবার(১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাস্তার পার্কিং এ গাড়ি রেখে কোম্পানীর একটি বিলবোর্ড লাগাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি লরি তার গাড়িকে ধাক্কা দিলে বিলবোর্ড ছিটকে তার মাথায় আঘাত করে। সেখানেই তিনি মারা যান।
নিহতের ছোটভাই জাহিদ শেখ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সেজভাই মারা গেছেন,আমাদের পুরো পরিবারের ছায়া ছিলেন তিনি। আমরা চাই আমাদের ভাইকে দেশে এনে নিজের মাটিতে কবর দিতে। আমরা আমাদের ভাইয়ের কবরে যেতে পারবো।
কথা ছিলো, ২০২৫ সালের জানুয়ারীতে কোম্পানী থেকে অবসর নিয়ে বাড়িতে এসে ঘরের বাকি কাজ শেষ করবেন। বাড়ির সামনে একটি গরুর খামার করবেন,তার কাজও শুরু হয়েছিলো। ছেলে কে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে নিজে বাকী জীবনটা কাটাবেন পরিবারের সাথে। সব কিছু নসাৎ করে দিয়ে প্রবাসে পড়ে থাকলেন মরদেহ হয়ে। স্ত্রী সাবিনা বেগম পুরোপুরি নির্বাক হয়ে গেছেন জীবনের বাকি দিনগুলোর কথা ভেবে। একমাত্র কন্যা চাদনী বাকরুদ্ধ,কাদতেও পারছেন না,বাবার এভাবে চলে যাওয়া তার কাছে অন্ধকারের মতো।
বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর একমাত্র মেয়ে চাদনী একেবারে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন,শব্দকরে কাঁদতেও পারছেন না। শত চেষ্টা করে কেবল তার মুখ দিয়ে একটি শব্দ বের হলো“আব্বাকে দেখতে চাই”এরপরই তিনি উচ্চশ^রে কাদতে থাকেন।
দীর্ঘ জীবনে স্বামীকে কাছে না পাওয়া স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, দুই বছর আগে এই মাসেই তিনি এখানে ছিলেন, কত পরিকল্পনার কথা আমাকে বলেছেন, গরুর খামারটি দেখাশুনা করার দায়িত্ব থাকবে আমার উপর। উনি কোথায় পড়ে থাকলেন, আমি একবার শেষ দেখা দেখতে চাই।
বাবার দেয়া টাকায় সুন্দর বাড়িটি তৈরী হচ্ছিল। বাবার নিজের পরিকল্পনা মতোই তৈরী বাড়িটি এখনো অসম্পূর্ন। পরেরবার ফিরে টাইলস এর কাজ শেষ করবেন। নিজের অসম্পূর্ন রুমের কাজও আর করা হলো না। একমাত্র পুত্র জুয়েল শেখ বললেন আক্ষেপের কথা। এই বাড়িটি করতে দেনা হয়েছেন তিনি, আমাকে মালয়েশিয়া পাঠাতে ও ৫ লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছে এজেন্টের কাছে। উনি দেশে আসলে আমি চলে যাব,এমনই পরিকল্পনা ছিলো। উনি তো আর উনার তৈরী বাড়িতেই থাকতে পারলেন না। পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী শামছুর রহমান এর মরদেহ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।