• 09 Feb, 2026

যেখানে সেখানে জন্ম নেয়া আকন্দ গাছ কি মানুষের কাজে লাগে?

যেখানে সেখানে জন্ম নেয়া আকন্দ গাছ কি মানুষের কাজে লাগে?

চারপাশে কোথাও খোলা মাঠ, রাস্তার ধারে, বা ফাঁকা জমিতে হঠাৎই দেখা মেলে এক ধরনের গুল্মজাত উদ্ভিদের—যার নাম “আকন্দ”। অনেকেই হয়তো জানেন না, এ গাছ শুধু পথের ধারে জন্ম নেয়া আগাছা নয়, বরং এতে রয়েছে নানা উপকারি গুণ। আকন্দের ফুল যেমন দেখতে মনকাড়া, তেমনি এর রয়েছে ঔষধি ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যও। চলুন, জেনে নিই আকন্দ গাছের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আকন্দ উদ্ভিদের পরিচিতি ও আবাসস্থল:

আকন্দ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Calotropis gigantea। এটি সাধারণত ভারত, বাংলাদেশ, নেপালসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে নিজে থেকেই জন্মায়। খোলা জায়গা, অনাবাদি জমি, রাস্তার পাশে অথবা বালুময় মাটিতে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে।

বংশ বিস্তার:

আকন্দ গাছ বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। ফুল ফোটার পর ফল হয়, আর সেই ফলে থাকা তুলার মতো আঁশে মিশে থাকে বীজ। বাতাসে উড়ে উড়ে এসব বীজ নতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে নতুন গাছ জন্ম নেয়।

ঔষধিগুণ ও ব্যবহার:

আকন্দ গাছের প্রায় প্রতিটি অংশেই রয়েছে ভেষজ গুণ।

পাতা ও কাণ্ড: ব্যথা উপশমে ব্যবহার হয়। হাড় ভাঙলে বা মচকে গেলে পাতা গরম করে ব্যবহার করা হয়।

মূল: হজমে সহায়ক, অর্শ বা পাইলসে ব্যবহৃত হয়।

দুধ বা রস: খোস-পাঁচড়া, চুলকানি বা চর্মরোগে লাগানো হয় (তবে সাবধানে, কারণ এটি ত্বকে জ্বালাপোড়া করতে পারে)।

ফুল: আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় নানা রোগে ব্যবহৃত হয়।

রাসায়নিক উপাদান:

আকন্দ গাছে পাওয়া যায়:

Alkaloids

Calotropin

Glycosides

Triterpenoids

Latex (দুধের মতো রস)

এসব উপাদান বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়।

সতর্কতা:

আকন্দ গাছের রস সরাসরি ত্বকে লাগলে জ্বালাপোড়া হতে পারে। চোখে গেলে ক্ষতি হতে পারে। তাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

শেষ কথা:

আজকের তোলা ছবিগুলোই প্রমাণ করে আকন্দ ফুল কতটা সুন্দর। তাই শুধু "আগাছা" হিসেবে ফেলে না দিয়ে, যদি এর গুণাগুণ সম্পর্কে জানি ও জানাই, তাহলে হয়তো এই উদ্ভিদও মানুষের উপকারে আসতে পারে।