নড়াইল ও মাগুরা জেলার সীমান্তবর্তী এই ১৩ মিটার দৈর্ঘ্যের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দিয়ে কৃষক, শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করে থাকেন। সেতুর একপ্রান্ত ধ্বসে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত, বেরিয়ে পড়েছে রড। চার বছর আগে একটি ট্রাক চলতে গিয়ে হেলে পড়লে সেতুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই স্থানীয়রা কাঠের তক্তা পেতে ভ্যান, ইজিবাইক, এমনকি ঘোড়ার গাড়ি দিয়েও কৃষিপণ্য পারাপার করে আসছেন।
কিন্তু ভটভটি বা নসিমন চললেই কাঁপে পুরো সেতু—যেন যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে পড়বে।সেতুর নিচের অবস্থা আরও ভয়াবহ। দু’টি গার্ডারের একটি একদিকে হেলে পড়েছে, পিলারের ইট খুলে গিয়ে সেখানে পাখির বাসা তৈরি হয়েছে, যা এখন ধ্বসে পড়ছে।স্থানীয়রা বলছেন, “প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। ভয় লাগে কখন যেন সেতুটা ভেঙে নিচে পড়ে যাই। কিন্তু জীবনের প্রয়োজনে চলাচল করতেই হয়।”
অন্যদিকে ওপারের বাসিন্দারা জানান, “সেতুটা ভেঙে পড়ায় মিঠাপুর হাটে যেতে ৮ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। আমাদের এই দুর্দশা দেখার কেউ নেই।”
জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ২০০১ সালে নির্মিত হয় চর ঝামারঘোপ খালের ওপর এই সেতুটি। স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা পরিদর্শন করে ছবি ও রিপোর্ট পাঠালেও আজও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই উন্নয়ন স্থবিরতার দায় কে নেবে? আর এই অবহেলার কারণে যদি প্রাণহানি ঘটে, তাহলে সেই দায়ভার কি কর্তৃপক্ষ নেবে?