• 09 Feb, 2026

জীবন বাঁচানো আবিষ্কার: ওরস্যালাইন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মূল্যবান মতামত

জীবন বাঁচানো আবিষ্কার: ওরস্যালাইন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মূল্যবান মতামত

ওরস্যালাইন আবিষ্কারের পর থেকে এটি ডায়রিয়া আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে—এমনটাই জানালেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা।

এসএমসি ওরস্যালাইন দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার দৈনিক কালবেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তাঁরা বলেন, মুখে খাওয়ার এই স্যালাইন শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্য বিপ্লবে এক যুগান্তকারী অবদান রেখেছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক কালবেলা-র সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং সঞ্চালনায় ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. তানিয়া রহমান মিতুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকাটির উপসম্পাদক দীপঙ্কর লাহিড়ী।

2801.jpgগোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন এসএমসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান, আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সুকুমার সরকার, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, সাবেক মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের চেয়ারপারসন বাবুল কুমার অধিকারী, শিশু চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে।

তসলিম উদ্দিন খান বলেন,

“ওরস্যালাইন আবিষ্কারের পর থেকে প্রতি বছর বারবার হানা দেওয়া ডায়রিয়ায় বিপর্যস্ত দেশের লাখো মানুষ বেঁচে গেছে। একসময় শিশু মৃত্যুর বড় কারণ ছিল এই রোগ। কিন্তু আইসিডিডিআর,বি’র গবেষণা, এসএমসি’র উৎপাদন, ব্র্যাকের সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ওরস্যালাইন হয়ে উঠেছে জীবন বাঁচানোর নির্ভরযোগ্য উপায়।”

জনস্বাস্থ্য বিশারদ ডা. সুকুমার সরকার বলেন,

“ডায়রিয়ায় শিশুমৃত্যু কমাতে ওরস্যালাইন একটা গেম চেঞ্জার হয়ে উঠেছে। এটি যে জীবন রক্ষায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা মানুষকে বোঝাতে সময় লেগেছে, কিন্তু প্রভাব অসাধারণ।”

আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ জানান,

“বাংলাদেশ থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অল্প কিছু উদাহরণ আছে, তার অন্যতম হলো ওরস্যালাইন। এর কল্যাণে অন্তত ৭ কোটি মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।”

অর্থনীতিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন,

“বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার দু’টি: অ্যান্টিবায়োটিক ও ওরস্যালাইন। তবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে অনেক জটিলতা তৈরি হলেও ওরস্যালাইন নিরাপদ ও কার্যকর এক জীবনরক্ষাকারী সমাধান। এমন উদ্ভাবন নোবেল পাওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।”

ডা. মুজিবুর রহমান শিশুদের স্যালাইন খাওয়ানো প্রসঙ্গে বলেন,

“নবজাতকরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে মায়েদের আগে বুঝতে হবে যে, তাদের প্রথম প্রতিরোধ হলো মাতৃদুগ্ধ। এরপর প্রয়োজনে ওরস্যালাইন দেওয়া যায়।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন,
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে এমন একটি বিশ্বব্যাপী জীবন রক্ষাকারী উদ্ভাবন ছড়িয়ে পড়া সত্যিই গর্বের। এসএমসি, ব্র্যাক, আইসিডিডিআর,বি ও সরকারের সম্মিলিত কাজেই আজ ওরস্যালাইন একটি নামেই ভরসা।