দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রত্যুষে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে বর্ণনাঢ্য কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় প্রথমে মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ, জাতীয় সংগীত এর সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন , কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন জেলা প্রশাসক শারমিন জাহান আক্তার, পুলিশ সুপার কাজী এহসান কবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধারা সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মাঠপাস পরিদর্শন করেন এবং কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধান মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অংশিজন।
উল্লেখ্য, তেইশ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইপিআরের বেতারে তার এই ঘোষণা প্রথমে নিজের, পরে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন মেজর জিয়াউর রহমান (পরে রাষ্ট্রপতি)।
এরপর নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
এবার এমন এক সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে, যখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মাঠের রাজনীতিতে নেই। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনাবসানের পর দেশ চালাচ্ছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তরবর্তীকালীন সরকার।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত ৫ অগাস্ট ভারতে পালিয়ে গিয়ে এখনও সেখানে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা; মাঠে নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জুলাই-অগাস্টে আন্দোলনকারীদের উপর ‘গণহত্যা’ চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার ‘স্বৈরশাসন’ পেরিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইউনূস সরকার।