• 09 Feb, 2026

ঋষি পল্লীর প্রদীপের জীবন বাঁচাতে শেষ আশা আপনিই!

ঋষি পল্লীর প্রদীপের জীবন বাঁচাতে শেষ আশা আপনিই!

"একজন বাবা, যিনি নিজের হাত দিয়ে সেলাই করতেন হাজারো ছেঁড়া জুতা—আজ নিজেই ভেঙে পড়েছেন হৃদয়ের অসুস্থতায়। যে মানুষটি সারা জীবন অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন নীরবে, আজ তিনিই হাত বাড়িয়েছেন আপনাদের দিকে। প্রদীপ বিশ্বাসের জীবন এখন আটকে আছে কয়েক লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয়ে। চলুন, একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে আমরা একসাথে হই।"

মানবিক আর্তনাদ: প্রদীপ বিশ্বাসের বাঁচার আকুতি

নড়াইল সদর উপজেলার রামসিদ্ধি গ্রামের এক প্রত্যন্ত ঋষিপল্লীর নাম কেউ জানে না, জানলেও মনে রাখে না। আর ঠিক এই পল্লীতেই বাস করেন প্রদীপ বিশ্বাস (৫৫)। জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রাম আর অপ্রাপ্তির গল্প বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা এক নিরব যোদ্ধা। ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়ে জীবন সংগ্রামে নেমেছিলেন একাই। আশ্রয়, ভরসা আর স্বপ্ন—সবই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন হাটে-বাজারে পুরাতন জুতা সেলাই করে চালিয়েছেন আট সদস্যের পরিবার।

প্রদীপের সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে, ছেলেদের স্ত্রী এবং তাদের দুটি সন্তান—মোট আটজন। বড় ছেলে বাবার পথ ধরেই হাটে হাটে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন, আর ছোট ছেলে একটি সেলুনে কাজ চালান। পরিবারটির নারীরা বসে থাকেনি; তার স্ত্রী ও দুই পুত্রবধূ মিলে বাঁশের তৈরি আংকুরা (মুরগি ঢাকার একধরনের ঢাকনা) তৈরি করেন। সারা সপ্তাহে গড়ে ২০টি আংকুরা বানিয়ে পাঁচ-ছয়শো টাকা আয় করেন তাঁরা। এই সামান্য আয়ের উপর ভর করে চলছিল দিন।

কিন্তু গত বছর ফাল্গুন মাসে প্রদীপ বিশ্বাস আক্রান্ত হন এক জটিল অসুস্থতায়। শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে থাকায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তিনি। পরীক্ষার পর জানা যায়, তার হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা মাত্র ৩৮% আছে—বাকি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, জীবন বাঁচাতে এনজিওগ্রাম এবং হার্টে রিং বসানো প্রয়োজন। চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

কিন্তু এই অর্থের যোগান কোথায়? পরিবারটি যে আগেই ঋণগ্রস্ত। বাঁশ-বেতের কাজের পুঁজি আর ছেলেদের কাজের জন্য নেওয়া গ্রামীণ ব্যাংক ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ঋণের টাকা ইতিমধ্যেই প্রদীপের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে। এখন আর কোনো রকম সহায়তা ছাড়া বাঁচার আশা নেই।

প্রদীপের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“আমি আমার স্বামীর সুস্থতার জন্য সাহায্য চাই। তিনি ভালো থাকলেই আমি কিছু চাই না।”

আজ প্রদীপ বিশ্বাস ও তাঁর পরিবার চেয়ে আছে মানবতার দিকে। সমাজে যদি কেউ সহানুভূতিশীল, মানবিক কিংবা সাহায্যপ্রবণ থাকেন—তাহলে আজই এগিয়ে আসার সময়। সামান্য সাহায্য হয়তো প্রদীপের নিভে যাওয়া জীবনটাকে আবার আলো দিতে পারে।

প্রদীপ বিশ্বাস কারো কাছেই বিখ্যাত নন, কিন্তু এক মানবিক হৃদয়ের কাছে তিনিও একজন মানুষ। আর এক মানুষকে বাঁচানোই তো আমাদের দায়িত্ব। যে যেভাবে পারেন, পাশে দাঁড়ান। মানবতার জয় হোক, হৃদয়ের বন্ধন জিইয়ে থাক।

বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন: YouTube Link: https://studio.youtube.com/video/k1wjui4Bd_0/edit