• 18 Apr, 2026

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত, জানালেন রণধীর জয়সওয়াল

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত, জানালেন রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে নতুন আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের অনুরোধটি ভারত সরকার তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করছে বলে জানায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হলেও, ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-কে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ বর্তমানে ভারত সরকার আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Randhir Jaiswal শুক্রবার নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা জটিল অবস্থায় পৌঁছালেও বর্তমানে ভারতের Narendra Modi সরকার বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে স্বাভাবিক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে, বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। প্রথমে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Asaduzzaman Khan Kamal-কে ফেরাতে আবারও ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়।

তবে এসব চিঠির বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এরপর বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকার বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Khalilur Rahman দিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী S. Jaishankar-এর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আবারও তোলেন। একই সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Ajit Doval এবং জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী Hardeep Singh Puri-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারত সরকারের কাছে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

ভারতের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়া ভারতের নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সিদ্ধান্তও সেই নিয়ম মেনেই হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান একটি সংবেদনশীল বিষয় হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

ভারত আশা করছে, খুব শিগগিরই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি যেমন আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও একটি বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: bdnews24.com