• 09 Feb, 2026

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধে বিচার চলাকালীন কার্যকর থাকবে নিষেধাজ্ঞা

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধে বিচার চলাকালীন কার্যকর থাকবে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শনিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে।

ঢাকায় টানা কয়েকদিনের ছাত্র আন্দোলন, অবরোধ ও গণবিক্ষোভের পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো বাংলাদেশ সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলটিকে দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে শনিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানায়।

নোবেল বিজয়ী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, এ সিদ্ধান্ত ‘উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ ঘোষণার’ মাধ্যমে কার্যকর করা হচ্ছে এবং পরবর্তী কার্যদিবসে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে যতদিন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়

সম্প্রতি আইসিটি আইন সংশোধন করে দল বা সংগঠনের বিচার করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এখন পুরো রাজনৈতিক দলকেও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।

সরকার জানিয়েছে, জুলাই ২০২৪-এ শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসন পতনের পর যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের নিরাপত্তা এবং ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার বিষয় বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যান শেখ হাসিনা, আর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনুস।

তখন থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শত শত মামলা চলছে। অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কেউ কেউ আত্মগোপনে বিদেশে রয়েছেন।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতার পর দলটি রাজনীতির কেন্দ্রে থাকলেও, হঠাৎ এ নিষেধাজ্ঞা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ধাক্কা বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অপরদিকে, ছাত্র সংগঠন ‘স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন (এসএডি)’ থেকে গঠিত ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)’ দলটি আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। শনিবার এনসিপি সমর্থকরা ইসলামী ও ডানপন্থী কয়েকটি দলের সঙ্গে একজোট হয়ে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং ইউনুসের বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করে দল নিষিদ্ধের দাবি তোলে।

তবে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। দলটির মুখপাত্র বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই।”

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল নিষিদ্ধের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।