জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌরসভা এবং ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে কালিয়া উপজেলা গঠিত। ওই উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ২০৯ জন। ৮২টি কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৫ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হারুন অর রশিদ (আনারস), বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ (মোটরসাইকেল), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নাজমুল হক প্রিন্স (দোয়াত কলম), কলাবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান (ঘোড়া) ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামীম রহমান (চিংড়ি মাছ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও সংসদ সদস্য কবীরুল হক মুক্তির হস্তক্ষেপে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয়ে আছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
বড়-কালিয়া, ছোট কালিয়া, কলাবাড়িয়া, পুটিমারি, জয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় ভোটাররা বলছেন, এবারে নির্বাচনে কোনো দলীয় মার্কা নেই, নৌকা নেই তাই কোনো চাপও নেই। আমরা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবো।
এর আগে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুল হক প্রিন্স পুটিমাটি গ্রামে এক নির্বাচনী পথসভায় হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আমার ভোটারদের উপর কেউ যদি কেউ হস্তক্ষেপ করে তাহলে সে হাত ভেঙে দেয়া হবে।’
এদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খান শামীম রহমানের (ওসি খান) পক্ষে সংসদ সদস্য কবীরুল হক মুক্তি সরাসরি অবস্থান নিয়ে নানাভাবে এলাকার ভোটারদের প্রভাবিত করছেন এমন অভিযোগ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। বিভিন্ন সময়ে তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে এবং সংসদ সদস্যের নিজস্ব লোকদের ডেকে ওসি খানের পক্ষে কাজ করার জন্য বলেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হারুন অর রশিদ জেলা প্রশাসকের কাছে এক অভিযোগে জানান, এমপি সাহেব এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ভিডিও কলের মাধ্যমে একজনকে তার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ বলেন, এমপি সাহেব নানাভাবে ভোটারদের তার লোক দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। এভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যারা ওসি খাকে ভোট দেবে না তারা যেন কেন্দ্রে না যায়, এমন কথাও বলছে এমপির লোকেরা।
চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম নাজমুল হক প্রিন্স বলেন, এমপি সাহেব এবার যা করছেন তা কেনো করছেন বুঝতে পারছি না। উনি ভোটারদের নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রতিহত করতেই উনি এগুলো করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল সকালে চাচুড়ী ও পুরুলিয়া ইউনিয়ন এবং বিকেলে পাচগ্রাম ইউনিয়নের শতাধিক লোক সংসদ সদস্যের বাসায় দেখা করতে যান। এছাড়া ২৬ এপ্রিল সালামাবাদ ইউনিয়ন থেকেও অনেকে খুলনায় গেছেন।
এমপির সমর্থন বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী খান শামীম রহমান বলেন, এমপি সাহেব তো এলাকাতেই নাই তিনি আমাদের জন্য ভোট কীভাবে চাইলেন? আমার জনপ্রিয়তার ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা এসব কথা ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবীরুল হক মুক্তি বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয় নির্বাচন করছে না যে আমাকে পক্ষ নিতে হবে। আমার কাছে যারা আসছেন তারা এলাকার ঝামেলা মেটাতে আসছেন, আমি তো কাউকে জোর করে আনছি না। এই বিতর্ক এড়াতেই আমি এলাকাতেই থাকছি না। আমাকে ছোট করার জন্য এগুলো রটিয়ে লাভ নেই।’
জেলা নির্বাচন অফিসার ও কালিয়া উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, এমপি সাহেবকে আমরা এলাকায় আসতে নিষেধ করেছি। উনি আমাকে কথা দিয়েছেন তিনি এলাকায় থাকবেন না, এছাড়া এলাকার বাইরে কিছু হলে সেটা তো আমরা কিছু করতে পারবো না। নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ আছে।