• 10 Feb, 2026

যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে সৎ, আদর্শিক, ত্যাগী ও দেশপ্রেমিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে : শেখ ফজলে শামস্ পরশ

যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে সৎ, আদর্শিক, ত্যাগী ও দেশপ্রেমিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে : শেখ ফজলে শামস্ পরশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সৎ, আদর্শিক, ত্যাগী ও দেশপ্রেমিকদের প্রাধান্য দিতে হবে। নড়াইল জেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি একথা বলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে কবুতর উড়িয়ে তিনি বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বেলা ১২টায় নড়াইলের সুলতান মঞ্চে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, স্মার্ট ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য যারা যোগ্য সেইসব নেতৃবৃন্দকে যুবলীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। তৃনমূলের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূল শক্তিশালী হলে দল ও দেশ এগিয়ে যাবে। সাধারণ জনগণের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। দেশি বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা যেন না থাকে। নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং ও ভেদাভেদ ভুলে আমাদের মূল শত্রু বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবেকা করতে হবে। যুবলীগের নেতৃত্ব হবে সৃজনশীল ও দক্ষ।

তিনি বলেন, একটি বিদেশি পরাশক্তি বে-অব বেঙ্গলে ঘাঁটি গাড়তে চায়। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের আবেদনে সাড়া দেননি এজন্য ঐ পরাশক্তি রাষ্ট্র নাখোশ হয়েছেন। এজন্য তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেশের স্বার্থ আগে। কোন ভীন রাষ্ট্রের প্রভুত্ব মেনে নেওয়ার মতো নেত্রী তিনি নন। যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে যুবলীগ আরো শক্তিশালী হবে, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিত চায়। তারা এ দেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চায়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানাতে চায়। মুক্তিযুদ্ধে চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়। আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশকে রক্ষার নামে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। আমরা যারা বাংলাদেশকে ভালবাসি তারা বাংলাদেশকে রক্ষার নামে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে দেব না। সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের আশাআকাক্সক্ষার প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

nrailknth28.jpgসম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লড়াই সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাবাকে হারিয়ে মাকে হারিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হারিয়ে জীবনের ঝুঁিক নিয়ে বাংলাদেশের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। আমরা কোন ভাইয়ের যুবলীগকে দেখতে চাই না। যুবলীগ হবে শেখ হাসিনার। তাহলেই যুবলীগ আওয়ামী লীগকে সম্মান করবে সংসদ সদস্যদের সম্মান করবে। যুবলীগ নেতাকর্মীদেরকে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার করার জন্য লড়াই সংগ্রাম করতে হবে। যুবলীগে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু কোন প্রতিহিংসা থাকবে না। ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধা যুবলীগকে শক্তিশালী করতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

fb-img-1716909618236.jpgনড়াইল জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী  লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. সুবাস চন্দ্র বোস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন খান নিলু, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তি এমপি।

নড়াইল জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুব্রত পাল সিআইপি, যুবলীগ খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, উপ-কৃষি ও সমবায় সম্পাদক মোল্লা রওশন জামির রানা, কার্য নির্বাহি সদস্য অ্যাড. কাজী বশির আহমেদ, অ্যাড. শেখ তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, নড়াইল জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদুল হক মাসুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য এএনএম তরিকুল ইসলাম, শাহিন আহমেদ, সজিবুল ইসলাম প্রমুখ।  সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক গাউছুল আজম মাছুম ও মাহফুজুর রহমান মাহফুজ। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নড়াইল জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালের ১৮ অক্টোবর। এরপর ২০০৫ সালের ৩ মার্চ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৪ মার্চ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।